,

তিনি শুধু আমার সহকর্মী না অভিভাবকও- শাকিব খান

সময় ডেস্ক ॥ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। পাঁচ শতাধিক ছবির এ অভিনেতার সঙ্গে বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। তাকে তিনি অভিভাবক হিসেবেই মানতেন। দুই দশকের ক্যারিয়ারে সাদেক বাচ্চুকে অভিভাবকের মতো পাশে পেয়েছেন দেশের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান। সব সময় শাকিবকে পরামর্শ দিয়েছেন। চলার পথে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।
সাদেক বাচ্চুর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে সোমবার শাকিব লিখেছেন, ‘সাদেক বাচ্চু ভাই শুধু আমার সহশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন চলচ্চিত্রে আমার অভিভাবকদের একজন। আমাকে তিনি সব সময় আগলে রেখে ভালোর পথে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিতেন। মানসিক সাপোর্ট দিয়ে সাহস জোগাতেন। নিয়মিত আমার খোঁজখবর রাখতেন। সহশিল্পী কিংবা অভিভাবকত্বের বাইরেও বাচ্চু ভাই আমার প্রতি এক অদৃশ্য মায়া দেখাতেন। তিনি আর নেই, শোনামাত্রই আমার ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে।’
শাকিব খান লেখেন, ‘চলচ্চিত্রে এতগুলো বছর কাজ করে অনেকের সঙ্গে পরিচয় ও সুসম্পর্ক হলেও সবাই আপন হতে পারেনি। হাতেগোনা কিছু মানুষ হৃদয়ে ঠাঁই পেয়েছে। তাদেরই একজন ছিলেন সাদেক বাচ্চু ভাই। তার সঙ্গে মন খুলে কথা বলতাম। সবকিছু শেয়ার করতাম। তিনি আমার ভালো কাজে যেমন উৎসাহ দিতেন, তেমনি মন্দ শুনলে খুব কষ্ট পেতেন। এমন গুণী অভিভাবক আর কোথায় পাব! ’
সাদেক বাচ্চুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শাকিব খান লেখেন, ‘গত ২০ বছর আমরা একসঙ্গে পথ চলছি। সংস্কৃতির সব মাধ্যমে সফল হওয়া এ মানুষটিকে আজ হারালাম। একজন সহকর্মী হারানোর চেয়ে আমার ব্যক্তিগত বেদনা লাগছে। মনে হচ্ছে, আমি আমার কোনো এক স্বজনকে হারালাম। পরম শ্রদ্ধায় সাদেক বাচ্চু ভাইয়ের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যেখানেই থাকবেন, দোয়া করি শান্তিতে থাকবেন।’
সোমবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন সাদেক বাচ্চু। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।
ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হলে গত ৭ সেপ্টেম্বর সাদেক বাচ্চু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর তার করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। এক দিন পর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি কোভিড ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন।
সাদেক বাচ্চু বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম খল-অভিনেতা। মঞ্চ ও টিভি নাটক থেকে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ১৯৭৭-৭৮ সালে বিটিভির নিয়মিত শিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেন সাদেক বাচ্চু। বিটিভিতে তার অভিনীত প্রথম নাটক ‘প্রথম অঙ্গীকার’।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নায়ক আলমগীর পরিচালিত ‘একটি সিনেমার গল্প’ চলচ্চিত্রের জন্য এই পুরস্কার অর্জন করেন সাদেক বাচ্চু। ১৯৮৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রামের সুমতি’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন সাদেক বাচ্চু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরো খবর