,

হবিগঞ্জ-১ আসনের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামী লীগের কেয়া ও বিএনপির সুজাত কি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন?

মতিউর রহমান মুন্না :: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় হবিগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এড. আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার আভাস পাওয়া গেছে। অপর দিকে ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন না পেলে এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শেখ সুজাত মিয়াও বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মহাজোটের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৭ জন। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী, এড. আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া এমপি, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডাঃ মুশফিক হুসেন চৌধুরী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এড. আলমগীর চৌধুরী এবং সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, জাতীয় পার্টি থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু এমপি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আতিকুর রহমান আতিক। ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৫ জন। তাঁদের মধ্যে বিএনপি থেকে সাবেক এমপি আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া, প্রবাসী কমিউনিটি লিডার শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ জাহেদ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভাপতি শাহ মোজাম্মেল নান্টু ও জেলা বিএপির সহ-সভাপতি এড. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সহ-ধর্মীনি এড. রুখসানা জামান চৌধুরী। গনফোরাম থেকে ড. রেজা কিবরিয়া। এতো প্রার্থীর মধ্যে আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে মহাজোটের প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ফরিদ গাজীর তনয় আওয়ামীলীগ নেতা শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী, হবিগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামীলীগ নেত্রী এড. আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া, কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান সংসদ সদস্য যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আতিকুর রহমান আতিক। ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বাধীন গনফোরামের প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া ও বিএনপির প্রার্থী হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া। এদিকে এ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী গত সোমবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে চুড়ান্ত প্রার্থী হিসাবে চিঠি পেয়েছেন। অপর দিকে, জাতীয় পার্টি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জেলা সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক। মিলাদ গাজী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দলের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করে। আর বর্তমান সংসদ সদস্য এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবুকে বাদ দিয়ে আতিকুর রহমান আতিককে জাতীয় পার্টির দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় নবীগঞ্জ শহরে ঝাড়– মিছিল করেছে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। তবে শেষ মুহূর্তে কে হচ্ছেন মহাজোটের একক প্রার্থী এনিয়ে নেতাকর্মীদের নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জোট থেকে হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনের মধ্যে একটি আসনে জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিককে ছেড়ে দেওয়া হবে। বিগত ২০১৪ সালের নির্বাচনে ও মিলাদ গাজী আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের স্বার্থে এ আসন আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিয়েছিল জাতীয় পার্টিকে। সে সময় দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে মিলাদ গাজী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। পরে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন জাপা নেতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু। এবার আসনটি আওয়ামীলীগের দখলে রাখতে মনোনয়ন বোর্ডের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ-ঘাটে চষে বেড়িয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এড. আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া। দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর লবিংয়ে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মিলাদ গাজীকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়ায় দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন কেয়া চৌধুরী। একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে, মনোনয়ন বঞ্চিত কেয়া চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহন করার সম্ভাবনা রয়েছে। অপর দিকে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে গণফোরামে যুক্ত হয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া। ইতিমধ্যে তিনি সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থীতা ঘোষনা করেছেন। এখন তিনি ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষনার অপেক্ষায় রয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে রেজা কিবরিয়াকে সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কারণ এ আসনের দীর্ঘদিন ধরে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছিলেন আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া। এমনকি তিনি বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন অনেকেই। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের হাইকমান্ডের গ্রিন সিগনাল পেয়ে আমি ২৮ নভেম্বর বুধবার দলীয় ভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেব। দলীয় মনোনয়ন না ফেলে কি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময়ই বলে দিবে কি করা যায়। অপর প্রার্থী এড. আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

     এই বিভাগের আরো খবর