,

নবীগঞ্জে ছুবেদ গংদের নেতৃত্বে কুশিয়ারা নদীর চর কেটে বালু ও মাটি বিক্রি

কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার : নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নে কুশিয়ারা নদীর চর কেটে বালু বিক্রি করছে স্থানীয় কয়েকটি প্রভাবশালী মহল। কোনো ধরণের ইজারা ছাড়াই উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের চরগাঁও ও কসবা গ্রামে বছরের পর বছর ধরে এ ঘটনা ঘটছে। এর ফলে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, ইনাতগঞ্জ ভূমি অফিস ও স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকে ম্যানেজ করেই সরকারের সম্পদ চুরি করে বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও কোম্পানির কাছে। যদিও এ বিষয়ে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাক ও ট্রাক্টর বোঝাই করে মাটি ও বালু পৌছে দেয়া হয় হন্তব্যে। এসব ট্রাক ও ট্রাক্টর ইনাতগঞ্জ বাজার অতিক্রম করে গেলেও ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ির প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নীরব। তাদের চোখের সামন দিয়ে গেলও করার যেন কিছুই নেই। ইনাতগঞ্জ বাজারের ছোট গলি দিয়ে অন্য যানবাহনের সাথে এসব ট্রাক, ট্রাক্টর চলার কারণে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। ফলে প্রাণ চলে যাচ্ছে পথচারীদের। সম্প্রতি বাজারে জানজটের সৃষ্টি হলে ব্যাটারি চালিত রিক্সার ধাক্কায় এক সন্তানের জননী অল্প বয়সেই মৃত্যুবরণ করেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের বুক চিড়ে প্রবাহিত কুশিয়ারা নদীতে বর্তমান সময়ে পানি না থাকায় কসবা গ্রামে বিশাল চর জেগেছে। বছরের পর বছর ধরে দীঘলবাক ইউনিয়নের চরগাঁও গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র ছুবেদ মিয়ার নেতৃত্বে মাটি ও কসবা গ্রামের রাসেলসহ স্থানীয় ৪/৫টি সড়ঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্র বিশাল স্থান নিয়ে কসবা গ্রামের কুশিয়ারা নদীর ঘাট এলাকায় মাটি ও বালু উত্তোলন করছে। প্রতিদিন ওই সড়ঘবদ্ধ চক্রের ৫০/৬০ জন শ্রমিক তারা নদীর চর কেটে ট্রাকে বালু ও মাটি তোলে দেন। বালুগুলো বিভিন্ন কোম্পানি, ইটভাটা ও ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। নদীর চর থেকে প্রতি ট্রাক বালুর দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ৫০-৬০ ট্রাক বালু বিক্রি করা হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর চরের বালু ও মাটি বিক্রি করে ছুবেদ গংরাসহ সড়ঘবদ্ধ কুচক্রী মহল লাভবান হলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছত্রছায়ায় সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্যদিকে বন্যা কবলিত এলাকায় নদীর চর কাটার ফলে আগামী দিনে বন্যার কবলে দীঘলবাক এলাকার আরো ব্যাপক য়তি হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সুচতুর মাটি খেকো ছুবেদ গংরা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে এদের চরে পাওয়া যায়না। প্রশাসন আসার আগেই তারা খবর পেয়ে যায়। তিনি বলেন বেপরোয়া ছুবেদকে আটকাতে পারলেই বন্ধ হয়ে যাবে চিরতরে কুশিয়ারা থেকে মাটি বালু উত্তোলন। এদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার করার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান। সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার সময়, কোদাল দিয়ে নদীর চর থেকে বালু কাটার সময় কথা হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৬৫ বৎসরের এক বৃদ্ধ শ্রমিকের সাথে। তিনি বলেন তোমরা কেনে আইছো কত বড় বড় রাগব বোয়াল আইয়া অখান তাকি ফিরিয়া গেইছন। তোমরা পত্রিকাত লেখিয়া কী হইবো! পত্রিকায় লেক্কিয়া কিচ্ছু অইতো নায়, কামকা আইছো রে বাবা যাওগি যাও। বড় সাব এখানে আওয়ার আগেই আমরা খবর পাইলাই। এক পর্যায়ে প্রতিবেদক কিভাবে খবর পান জানতে চাইতে অপারগতা প্রকাশ করে বালু কাটা বন্ধ করে তিনিসহ অন্য শ্রমিকরা চলে যান। এদিকে বন্যা কবলিত এলাকা হিসেবে দীঘলবাক ইউনিয়নে গত বছর প্রায় কয়েক শতাধিক পরিবারের ঘর-বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ঝুকিঁপূর্ন এলাকা হওয়া সত্ত্বেও কী ভাবে প্রকাশ্যে এ ইউনিয়নে নদীর চর কেটে অবাধে বালু বিক্রি করা হচ্ছে এনিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অন্যদিকে নদীর চর থেকে প্রকাশ্যে মতার দাপটে সরকারি সম্পদ চুরি করে বিক্রি করে একেকজন হয়েছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। একাধিক বার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পরও কোনো স্থায়ী ফলাফল না আসায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছেন সচেতন মহল। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন(বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, নদী মাতৃক আমাদের এই বাংলাদেশ। কিছু অসাধু লোকজনের কারণে নদীর চর কেটে বালু বিক্রি করার উৎসব চলছে। কুশিয়ারা নদীর একটি অংশ নবীগঞ্জের বন্যা কবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত দীঘলবাক ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত। একের পর এক নদীর চর কেটে বালু বিক্রি করার ফলে এলাকাটি বন্যা কবলিত এলাকা হিসেবে আরো বেশি ঝুকিঁপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই দ্রুত চর কাটা বন্ধে প্রশাসন সোচ্চার হবে বলে আশাবাদী। নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাশ চর কেটে বালু বিক্রির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এখানে একাধিক পক্ষ কুশিয়ারা নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে মাটি বালু বিক্রি করে আসছে। এ ব্যাপারে কিছুদিন পূর্বে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং বালুর স্তুপ জব্দ করাসহ মোবাইল কোর্টে কয়েকজনকে সাজা ও জরিমানা করি। অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে চরে ছুবেদকে কখনো পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন বলেন, বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নদীর চর থেকে বালু কাটা ও বিক্রি বন্ধ করা হয় এবং বালু মাটি জব্দ করা হয়। যারা বালু বিক্রি করছে তাদের সবার বিরুদ্ধে শীঘ্রই নিদিষ্ট বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর আওতায় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারকে রাজস্ব না দিয়ে যারা এ ধরণের কার্যক্রম করে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যান্ত শক্ত আমরা এ বিষয় কঠোরভাবে দমন করবো।

     এই বিভাগের আরো খবর