,

বাসা-বাড়িতে হাটুপানি, ভেসে গেছে অনেক পুকুরের মাছ, প্রধান সড়কে চলেছে নৌকা

টানা বর্ষণে হবিগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি

জুয়েল চৌধুরী : টানা বর্ষণে হবিগঞ্জ জেলা শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। শহরের বেশিরভাগ বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এমনকি পানি ঢুকেছে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাসভবনেও। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরের বাসিন্দারা।

আজ শুক্রবার (১৭ জুন) গভীর রাত থেকে হবিগঞ্জে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। এতে জেলা শহরের সবচেয়ে উঁচু স্থান বাণিজ্যিক এলাকা, পুরানমুন্সেফী, বদিউজ্জামান খান সড়ক, সার্কিট হাউজ সড়ক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনের রাস্তা, উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব শ্যামলী, কালিবাড়ি ক্রস রোড, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বাসভবন, সদর মডেল থানা, শায়েস্তানগর বাজার, মোহনপুর, গোসাইনগর, মাহমুদাবাদ, গার্ণিং পার্ক, নারকেল হাটা, কোর্ট স্টেশন, চৌধুরী বাজারসহ আরও কয়েকটি এলাকার বাসাবাড়িতে হাঁটু পানি জমতে দেখা গেছে। দোকানের ভেতর ঢুকে যাওয়া পানি সেচে বের করছেন ব্যবসায়ীরা।


একইভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিচু ঘর-বাড়ি ও হাটবাজারে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি বাড়ায় অনেক স্থানে নৌকা চলাচল শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ভারী বৃষ্টি হলেই দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকে পুরো হবিগঞ্জ শহরে। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে যায়। এ সমস্যা দীর্ঘ দিনের। এখানকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন না ঘটালে সমস্যাটি লেগেই থাকবে।
এদিকে পানি বাড়ছে হবিগঞ্জের কালনী এবং কুশিয়ারা নদীতেও। নদীগুলোর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এজন্য হাওরাঞ্চলের লোকজনের কপালে এখন চিন্তার ভাজ।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ৩-৪ ফুট জলাবদ্ধতা পাড়ি দিয়ে হবিগঞ্জ শহরবাসী চলাচল করছে। জেলা শহরের প্রধান সড়কের শায়েস্তানগরে গাড়ির সঙ্গে নৌকা চলতেও দেখা গেছে। ফুটপাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মালামালসহ শহরের অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কৃষক ওয়ারিশ মিয়া বলেন, নদীর পানি প্রতিদিন বাড়ছে। বাড়ির সামনেও পানি এসে পড়েছে। আর কয়েকদিন এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বন্যার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিন্টু চৌধুরী বলেন, হবিগঞ্জ শহরে কালনী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে হাওরাঞ্চলের প্রত্যেকটি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, পর্যাপ্ত বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, ‘সকাল থেকেই বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। কেউ জলাবদ্ধ অবস্থায় থাকলে অথবা খাদ্য বা ঔষধ সহায়তার প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ৩৩৩ এ কল করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।’

     এই বিভাগের আরো খবর