,

বন্যার পানিতে ডুবে গেছে নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জের মোস্তফাপুর আনোয়ারুল দাখিল মাদ্রাসার বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি

নবীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ

সার্বিক কার্যক্রম তদারকি এবং পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে কাজ করছে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি

জাবেদ তালুকদার : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল আর গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারনে নবীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। কুশিয়ারা নদীর পানি ডাইকের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং কুশিয়ারার বাঁধে নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় উপজেলার দীঘলবাক, ইনাতগঞ্জ, বড় ভাকৈর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে পানি ডুকে প্রবল বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও করগাঁও, আউশকান্দি, কুর্শি, বাউসাসহ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই তলিয়ে গেছে গ্রামীন জনপদের রাস্তাঘাট। পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তাও তলিয়ে যেতে দেখা গেছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জের মোস্তফাপুর আনোয়ারুল দাখিল মাদ্রাসার বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটিও। তাছাড়া উপজেলার বেশ কয়েকটি রাস্তায় পানি জমায় চলাচলেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। গ্রামীন জনপদের চলাচলের অধিকাংশ রাস্তাই পানির নীচে। ফলে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার শতাধিক গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। এমতাবস্থায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্টান।

নৌকাযোগে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি এবং পরিদর্শনে
যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান

গতকাল সোমবার সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ইউনিয়নেই পানি। বানবাসি মানুষ গরু ছাগল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে আশ্রয় নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। মানুষ কতোটা অসহায় সে চিত্রই দেখা গেল সারাদিন ঘুরে। গবাদি পশু, গর্ভবতী মহিলা, শিশু, বৃদ্ধাদের নিয়ে মানুষজন অসহায় হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে মোট ১৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এদিকে নতুনভাবে আউশকান্দি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন বাড়ীঘরে পানি। হুমকির মুখে রয়েছে পারকুল বিদুৎপ্লান্ট। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বিদুৎ পাওয়ারপ্লান্টে পানিতে তলিয়ে যাবার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। তবে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি আশাবাদী পাওয়ার প্লান্টের কোন ক্ষতি হবে না।
এদিকে গতকাল সোমবার বন্যা পরিস্থিতিতে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি এবং মনিটরিং করতে উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান। তিনি উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের মাধবপুর, গালিমপুর ও মতিউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিন্টু চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মহি উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাশ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ, আরএমও চম্পক কিশোর সাহা সুমন। উপজেলা পজিব কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ প্রমূখ। এছাড়াও বিদ্যুৎ উৎপাদন ঠিক রাখতে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড পরিদর্শন করেন তিনি। এ বিষয়ে তেমন আশঙ্কা পরিলক্ষিত হয় নি। সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে নবীগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি। নবীগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎের ডিজিএম আলীবর্দী খান সুজন জানান- সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্ছ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে জন্তুরী, পাঞ্জারাই, করগাওসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ামাত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ কর্মীগণ সর্বদা তৎপর রয়েছে। কারো বাসায় বৈদ্যুতিক মিটার বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হলে তা স্পর্শ করা থেকে বিরত থেকে দ্রুত অত্র দপ্তরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিন বলেন, গতকাল ভোরে উপজেলার কুশিয়ারা নদীর বাল্লা-জগন্নাথপুর এলাকায় বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রবেশ করে নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এক দিনে প্রায় এক ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে তাঁর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়ন এখন প্লাবিত। জেলা প্রশাসক খবর পেয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। ১২টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ২০৫ পরিবারের ১০০০ মানুষের জন্য খাবার প্রদান করা হয়েছে। শুকনো খাবার প্যাকেজের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া সরকারিভাবে শিশু খাদ্যর জন্য ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও গো খাদ্যর জন্য ৫০ হাজার টাকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত নবীগঞ্জের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ও ৮ নং ইউ পি তে খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ ও দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাত ৮ ঘটিকার দিকে সরকার প্রদত্ত খাবার পৌঁছাতে টোকের বাজার থেকে নৌকায় ১নং ইউনিয়নে রওনা দিতে দেখা গেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্র্তাকে। আইন শৃংখলা রক্ষায় সর্বদা প্রস্তত রয়েছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ এবং প্রস্তত রয়েছে মেডিকেল টিম। এদিকে বন্যা পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি তৎপর রয়েছ ইউনাইটেড নবীগঞ্জ, একমুটো হাসিসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক সংঘঠন।

     এই বিভাগের আরো খবর