,

শায়েস্তাগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত :: সবজির ব্যাপক ক্ষতি

আর এইচ শাহিন,  শায়েস্তাগঞ্জ : হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে শাক সবজিসহ ফসলের। পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আগাম বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ১০টি গ্রাম। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে ওই এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাট। অনেক বাড়িঘরে উঠেছে পানি। কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে  সবজি তলা। আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে এলাকা প্লাবিত হওয়ায় অনেক পুকুর ও ফিসারীর মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
অবিরাম বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে। উজানে টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর,  বারলাড়িয়া, চন্ডীপুর, নোয়াগাও, পুরাসুন্দা, নছরতপুর, শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের কাজিরগাও, নিশাপট, মররা, ডাকিজাঙ্গাল, লাদিয়া, ব্রাক্ষণডুরা ইউনিয়নের পুটিয়া, কেশবপুর সহ বেশ কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ওই তিন ইউনিয়নের ১৫ টি গ্রামের এক হাজার একর ফসলের মাঠে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সবজিতলা ২ /৩ ফুট পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এ দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খরস্রোতা খোয়াই ও সুতাং নদীর পানি বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বন্যার পানির কারনে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়াতে কেউ নৌকা করে চলাচল করছেন কেউ কেউ আবার কলা গাছের ভেলায় করে চলাচল করছেন।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ফরিদ মিয়া বলেন অনেক কস্ট করে ৩২ শতক  জায়গাতে লাউ, চিচিঙ্গা, দেঢশ সহ বিভিন্ প্রজাতির সবজির ক্ষেত বানের পানিতে ডুবে গেছে। অনেক টাকা খরচ করে সবজি গুলি লাইগাই কিন্তু পানি কারনে আর পারলাম না।
মররা গ্রামের আরেক কৃষক মমরাজ মিয়া বলেন সবজি ক্ষেত তো শেষই এখন দেখতাছি আমাদের গরু ছাগল ও না খাইয়া মরবো। গো খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিছে।
ক্ষতিগ্রস্থ মাছের খামারের মালিক সুমন মিয়া জানান উজানের পানির কারনে আমার অনেক বড় ক্ষতি হইলো। প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেল।
আমার মতো অনেকেরই এ রকম ক্ষতি হইছে।
এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান বুলবুল খান বলেন, টানা বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের বেশ কয়েক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকের ফসলের ক্ষতে পানিতে তলিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে  শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  সুকান্ত ধর বলেন, উপজেলায় মোট সবজি ছিলো প্রায় ১০৫ হেক্টর। এর মধ্যে ৬০ হেক্টর সবজি পুরোপুরি বিনষ্ট হয়ে গেছে। বাকী সবজি গুলো কম বেশি নষ্ট হয়েছে।খুব অল্প সবজির জমি হয়ত রিকভার করবে। পানি সরে গেলে প্রকৃত ক্ষতির হিসাবটা আমরা করতে পারব।

     এই বিভাগের আরো খবর